একটু সচেতনতা রক্ষা করতে পারে আপনার ও আপনার শিশুর জীবন !!! একটি সমাজসেবা মূলক ব্লগ ।

Dec 8, 2017

হরিতকী (বৈজ্ঞানিক নাম: Terminalia Chebula) একটি ভেষজ উদ্ভিদ। ভারত বর্ষের বিভিন্ন স্থানে এটি পাওয়া যায়। আয়ুর্বেদিক বিজ্ঞানে ত্রিফলা নামে পরিচিত তিনটি ফলের মধ্যে হরিতকি একটি। এর নানা গুণ আছে। স্বাদ তিতা। এ গাছের ফল-বীজ-পাতা সবই মানুষের উপকারে আসে । মানুষের রোগ প্রতিরোধে প্রতিষেধক হিসেবে এই উদ্ভিদ বিশেষ কার্যকর। ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসজনিত রোগের ক্ষেত্রে বিশেষ উপকারী। এটি ট্যানিন, অ্যামাইনো এসিড, ফ্রুকটোজ ও বিটা সাইটোস্টেবল সমৃদ্ধ। হরিতকি দেহের অন্ত্র পরিষ্কার করে এবং একই সঙ্গে দেহের শক্তি বৃদ্ধি করে। এটা রক্তচাপ ও অন্ত্রের খিঁচুনি কমায়। হৃদপিণ্ড ও অন্ত্রের অনিয়ম দূর করে। এটি পরজীবীনাশক, পরিবর্তনসাধক, অন্ত্রের খিঁচুনি রোধক এবং স্নায়ুবিক শক্তিবর্ধক। হরতকি কোষ্ঠকাঠিন্য, স্নায়ুবিক দুর্বলতা, অবসাদ এবং অধিক ওজনের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। চলুন জেনে নেয়া যাক হরতকির আরো কিছু উপকারিতা-
 
ক। হরতকিতে অ্যানথ্রাইকুইনোন থাকার কারণে রেচক বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে হরিতকি। অ্যালার্জি দূর করতে হরতকি বিশেষ উপকারী।  
 
খ। হরতকি ফুটিয়ে সেই পানি খেলে অ্যালার্জি কমে যাবে।
 
গ। হরতকি গুঁড়া নারিকেল তেলের সঙ্গে ফুটিয়ে মাথায় লাগালে চুল ভালো থাকবে।

ঘ। হরতকির গুঁড়া পানিতে মিশিয়ে খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে।

ঙ। গলা ব্যথা বা মুখ ফুলে গেলে হরিতকি পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি দিয়ে গার্গল করলে আরাম পাবেন।

চ। দাঁতে ব্যথা হলে হরতকি গুঁড়া লাগান, ব্যথা দূর হবে।

ছ। রাতে শোয়ার আগে অল্প বিট লবণের সঙ্গে ২ গ্রাম লবঙ্গ বা দারুচিনির সঙ্গে হরিতকির গুঁড়া মিশিয়ে খান। পেট পরিষ্কার হবে। 

Jul 26, 2015

জেনে নিন কালোজিরার উপকারীতা


কাল জিরার উপকারীতা এর চিত্র ফলাফল
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাঃ- কালোজিরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে যে কোন জীবানুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেহকে প্রস্তুত করে তোলে।  

রক্তের শর্করা কমায়ঃ- কালোজিরা ডায়াবেটিক রোগীদের রক্তের শর্করা কমিয়ে ডায়াবেটিক আয়ত্তে রাখতে সহায়তা করে।  

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনঃ- কালোজিরা নিন্ম রক্তচাপকে বৃদ্ধি এবং উচ্চ রক্তচাপকে হ্রাসের মাধ্যমে শরীরে রক্তচাপ এর স্বাভাবিক মাত্রা সুনিশ্চিত করতে সহায়তা করে।  

যৌন ক্ষমতাঃ- কালোজিরা নারী-পুরুষ উভয়ের যৌন ক্ষমতা বাড়ায়। এবং কালোজিরা সেবনে স্পার্ম সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, ফলশ্রুতিতে পুরুষত্বহীনতা থেকে মুক্তির সমূহ সম্ভাবনা সৃষ্টি করে।  

স্মরণ শক্তি উন্নয়নঃ- কালোজিরা মস্তিস্কের রক্ত সঞ্চলন বৃদ্ধির মাধ্যমে স্মরণ শক্তি বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।  

হাঁপানীঃ- কালোজিরা হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা সমাধানে সহায়তা করে।  

চুল পড়া বন্ধ করেঃ- কালোজিরা চুলের গোড়ায় পুষ্টি পৌঁছে দিয়ে চুলপড়া বন্ধ করে এবং চুল বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।  

রিউমেটিক এবং পিঠে ব্যাথাঃ- কালোজিরা রিউমেটিক এবং পিঠে ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।  

মায়ের দুধ বৃদ্ধিঃ- কালোজিরা মায়েদের বুকের দুধের প্রবাহ এবং স্থায়ীত্ব বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।  

শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধিঃ- কালোজিরা শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করে।  

দেহের সাধারণ উন্নতিঃ- নিয়মিত কালোজিরা সেবনে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে সতেজ করে ও সার্বিকভাবে স্বস্থ্যের উন্নতি সাধন করে।  

হাদিসে আছেঃ- “তোমরা কালোজিরা ব্যবহার কর, নিশ্চয়ই সকল রোগের নিরাময় ইহার মধ্যে নিহিত রয়েছে” -মৃত্যু ছাড়াঃ (সহীহ বুখারী-১০/১২১)  

তাই আসুন প্রতিদিনের খাবারের সাথে যোগ করি কালোজিরা..........

ভেজাল ওষুধে সয়লাব সারা দেশ, কতৃপক্ষ উদাসীন

ক্যান্সারের ভেজাল ওষুধ এর চিত্র ফলাফল
প্রতি বছর বিশ্বে সাড়ে ৪ হাজার কোটি পাউন্ডের ভেজাল ওষুধ বিক্রি হয়। এর অধিকাংশই তৈরি হয় এশিয়ায়। ধারণা করা হচ্ছে, ভেজাল ওষুধ প্রস্তুতকারী দেশগুলোর অন্যতম হচ্ছে চীন। ভেজাল ওষুধের ৯০ ভাগই বিক্রি হয় অনলাইনে ব্রিটেনে। ক্যান্সার, হƒদরোগ, মেদ, ডায়াবেটিস ও চুল পড়ার মতো অসুখ নিরাময়ে এসব ওষুধ প্রচুর বিক্রি হয়। স্ট্রোকের মতো অসুখের চিকিৎসায় এসব ওষুধের রমরমা ব্যবসা চলছে বিশ্বজুড়ে। প্রকৃত ওষুধের অবিকল প্যাকেটে ভেজাল ওষুধ তৈরি হচ্ছে। দেখে চেনার উপায় নেই কোনটা আসল আর কোনটা নকল।  ইঁদুর মারার বিষ, বরিক এসিডের মতো ক্ষতিকর উপাদানও এসব ওষুধে মেশানো হচ্ছে। ভেজাল কাশির ওষুধ খেয়ে ১৯৯৮ সালে ভারতে ৩৩টি শিশুর মৃত্যু ঘটে।গত ৫ বছরে বিশ্বে ভেজাল ওষুধ বিক্রি দ্বিগুণ বেড়েছে। আর এসব ভেজাল ওষুধ খেয়ে মানুষ মরছে গিনিপিগের মতো। ব্রিটেনে ক্যান্সার নিরাময়ের নামে ভেজাল ওষুধ বাজারজাত করে কোটি কোটি পাউন্ড হাতিয়ে নেয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ফাঁস হয়েছে।  পিটার গিলেস্পি (৬৫) নামের এক ব্রিটিশ অসাধু ব্যবসায়ী চীনের তৈরি ভেজাল ওষুধ আমদানি ও প্যাকেটজাত করে ক্যান্সার, হƒদরোগ ও মানসিক রোগের অবিকল নকল ওষুধ তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে বাজারজাত করে আসছিল। সে এগুলো ফার্মেসি, হাসপাতাল ও বিভিন্ন কেয়ার হোমে সরবরাহ করছিল। এ যাবত প্রায় ১ লাখ ওষুধ বিভিন্ন রোগীকে দেয়া হয়েছে। গিলেস্পি ২০০৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০০৭ সালের মে মাস পর্যন্ত ৭২ হাজার প্যাক ভেজাল ওষুধ আমদানি করে। ইতিমধ্যে ২৫ হাজারের বেশি মারাত্মক অসুস্থ রোগীকে এই ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে। এদের বেশীরভাগ প্রস্টেট ক্যান্সারের রোগী।

Jan 31, 2015

লেবুর রসের উপকারীতা

যুগ যুগ ধরেই লেবুর উপকারি গুণাগুণ মানুষের জানা। এর মাঝে একটা প্রধান উপকারিতা হলো ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ইত্যাদির তৈরি করা রোগ বালাই দূরীকরণ এবং শরীরের সার্বিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি। আরেকটা হলো হজম শক্তি বাড়ানো এবং যকৃৎ পরিষ্কারের মাধ্যমে ওজন কমানোর ক্ষমতা। লেবুতে সাইট্রিক এসিড এর পাশাপাশি আরও রয়েছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, বায়োফ্লাভোনোয়েড, পেক্টিন এবং লিমোনিন। এই সবগুলো পদার্থের প্রভাবেই আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং রোগের সাথে শরীর যুদ্ধ করার শক্তি পায়। সকালে এক গ্লাস গরম পানির সাথে লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে এসব উপকার সর্বাধিক মাত্রায় পাবে আপনার শরীর। 

গরম পানি কেন ? 
কারণ ঠাণ্ডা পানির চাইতে গরম পানি শরীরে শোষিত হয় অনেক দ্রুত এবং এর থেকে তত বেশি উপকৃত হবেন আপনি। এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে অর্ধেকটা লেবুর রস মিশিয়ে পান করতে পারেন। আর সকালে উঠে অন্য যে কোনও কাজ করার আগেই এটা পান করবেন। তাহলেই পাবেন এর অসাধারণ সব উপকারিতা। 

১) হজমে সহায়কঃ শরীর থেকে অযাচিত পদার্থ এবং টক্সিন বের করে দেয় লেবুর রস। আমাদের হজমের জন্য ব্যবহৃত লালা এবং পাচক রসের সাথে বেশ মিল আছে এর গঠন এবং কাজের। আর যকৃতের থেকে হজমে সহায়ক এক ধরণের পদার্থ নিঃসরণেও এটি সহায়তা করে। 

২) ডাইইউরেটিক হিসেবে কাজ করেঃ শরীরে মুত্রের পরিমাণ বৃদ্ধি করে এবং এর মাধ্যমে খুব দ্রুত ক্ষতিকর এবং বিষাক্ত পদার্থ শরীর থেকে বের হয়ে যায়। এছাড়া মূত্রনালির স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও এটি সহায়ক। 

৩) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়ঃ লেবুতে থাকে অনেকটা ভিটামিন সি এবং লৌহ যা ঠাণ্ডাজ্বর জাতীয় রোগের বিরুদ্ধে ভীষণ কার্যকর। এতে আরও আছে পটাসিয়াম যা মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুকে সক্রিয় রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে সহায়তা করে। এতে থাকা অ্যাসকরবিক এসিড প্রদাহ দূর করে এবং অ্যাজমা বা এজাতীয় শ্বাসকষ্টের সমস্যা কমায়। এছাড়াও কফ কমাতে সাহায্য করে লেবু। 

৪) শরীরের পিএইচ মাত্রা ঠিক রাখেঃ এর অর্থ হলো শরীরের অম্ল-ক্ষারকের মাত্রা ঠিক রাখে লেবু। লেবু হজম হয়ে যাবার পর কিন্তু আর অম্লীয় থাকে না, ক্ষারীয় হয়ে যায়। ফলে এটি রক্তে মিশে যায় এবং শরীরের অম্লতা বাড়তে দেয় না। অম্লতা বেড়ে গেলেই দেখা দেয় রোগ। 

৫) ত্বক পরিষ্কার করেঃ ত্বকের কুঞ্চন এবং দাগ দূর করে লেবুতে থাকা বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বকের জন্য খুব দরকারি হল ভিটামিন সি। ব্রণ বা অ্যাকনি সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া এটি দূর করে। আর ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতেও এটি কার্যকরী। 

৬) আপনার মন ভালো করে দেয়ঃ সকালেই প্রাণচাঞ্চল্য বাড়িয়ে দিতে এর জুড়ি নেই। খাবার থেকে শক্তি শোষণের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় লেবু। আর এর গন্ধে আপনার মন ফুরফুরে হয়ে উঠবে নিমিষেই। দুশ্চিন্তা এবং বিষণ্ণতা দূরীকরণেও এটি অসামান্য। 

৭) সেরে ওঠার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেঃ ক্ষতস্থান সেরে তুলতে সাহায্য করে অ্যাসকরবিক এসিড। আর হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখতেও এটি সহায়ক। স্ট্রেস এবং যে কোনও ধরণের ব্যাথার উপশম করে ভিটামিন সি। 

৮) নিঃশ্বাসে আনে তরতাজা ভাবঃ নিঃশ্বাসে লেবুর সতেজতা আনা ছাড়াও, এভাবে গরম পানির সাথে লেবুর রস পানে দাঁতের ব্যথা এবং জিঞ্জিভাইটিসের উপশম হয়। তবে এটা পানের পর পরই দাঁত ব্রাশ করবেন না কারণ সাইট্রিক এসিড দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে ফেলে। আগে দাঁত ব্রাশ করে তার পর এটা পান করা ভালো। আর লেবুপানি পান করার পর বিশুদ্ধ পানি খেতে পারেন এক গ্লাস। 

৯) শরীরে তরলের পরিমাণ ঠিক রাখেঃ রাতে ঘুমানোর সময়ে যে পানি খরচ হয় সেটা পূরণ হয়ে যায় সকাল সকাল এই এক গ্লাস পানি পানের মাধ্যমে। 

১০) ওজন কমাতে সহায়কঃ লেবুতে প্রচুর পরিমাণে পেক্টিন থাকে। আঁশজাতীয় এই পদার্থ ক্ষুধা নিয়ন্ত্রনে রাখে। ফলে ওজন কমে। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের খাবারে এমন অম্লজাতীয় খাবার কম থাকে তাদের ওজন বাড়ে বেশি।

Jan 30, 2015

আপনি জানেন কি আখের রসের গুণাগুণ গুলি ???


আখের রস ক্ষারীয় প্রকৃতির এবং শর্করায় সমৃদ্ধ। এ ছাড়া এতে রয়েছে খনিজ, সামান্য পরিমাণে প্রোটিন ও ভিটামিন।  আমরা সাধারণত আখের কাঁচা রসটাই পান করে থাকি। তবে চাইলে একটু লেবু, আদা কিংবা ডাবের পানির সঙ্গে মিশিয়েও পান করতে পারি।  

উপকারিতা :
* ঠাণ্ডা-জ্বর, গলায় ক্ষত ইত্যাদি সারায়। 
* দেহকে ঠাণ্ডা রাখার সঙ্গে সঙ্গে শক্তি বাড়ায়। 
* কিডনি, হৃৎপিণ্ড, মস্তিষ্ক, চোখ, পাকস্থলী ইত্যাদি কার্যক্ষম রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
* পরিপাক ও হজমক্রিয়া সুস্থ রাখে। 
* রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে ডায়াবেটিক রোগীরাও পান করতে পারেন। 
* এই রস ক্যান্সার প্রতিহত করে। 
* দাঁতের ক্ষয় রোধে আখের রস প্রতিরোধক। 
* প্রস্রাবের প্রবাহ স্বাভাবিক রাখে। 
* জন্ডিসে আখের রস ওষুধের ভূমিকা পালন করে। 

মনে রাখবেন :
 
* অতিরিক্ত আখের রস পানে ওজন বৃদ্ধি পাবে এবং ডায়াবেটিক রোগীর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 
* কিন্তু খুব গরমে এবং বাতাসবিহীন আবহাওয়ায় এক গ্লাস আখের রস সুপেয় পানীয়।

Oct 11, 2014

আজ জেনে নিই অর্জুন গাছের ছালের উপকারীতা !!!


অর্জুন একটি মহৌষধি উদ্ভিদ । ভেষজ শাস্ত্রে ঔষধি গাছ হিসেবে অর্জুনের ব্যবহার অগণিত। বলা হয়ে থাকে, বাড়িতে একটি অর্জুন গাছ থাকা আর একজন চিকিৎসক থাকা একই কথা।  এর ঔষধি গুণ মানব সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে সুপ্রাচীন কাল থেকেই। যতদিন যাচ্ছে অর্জুনের উপকারী দিক ততই উদ্ভাসিত হচ্ছে।  নিম্মে অর্জুনের কিছু উপকারী দিক বর্ণনা করা হলো-  

হৃদরোগ: অর্জুনের প্রধান ব্যবহার হৃদরোগে। অর্জুন ছালের রস কো-এনজাইম কিউ-১০ সমৃদ্ধ। এই কো-এনজাইম কিউ-১০ হৃদরোগ এবং হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করে। বাকলের রস ব্লাড প্রেসার এবং কোলেস্টেরল লেভেল কমায়। অর্জুনের ছাল বেটে রস খেলে হৃদপিন্ডের পেশি শক্তিশালী হয় এবং হৃদযন্ত্রের ক্ষমতা বাড়ে। বাকলের ঘন রস দুধের সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেতে হবে। বাকলে রস না থাকলে শুকনো বাকলের গুঁড়া ১-২ গ্রাম দুধের সাথে মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেতে হবে।  

অ্যাজমা: অর্জুন ছালের পাউডার ১২ গ্রাম দুধের ক্ষীর বা পায়েসের সাথে মিশিয়ে খেলে অ্যাজমা আক্রান্ত ব্যক্তির অ্যাজমা রোগের স্থায়ী সমাধান হবে।  

কাশি হলে : অর্জুন ছালের গুঁড়া, বাসক পাতার রসে ভিজিয়ে শুকিয়ে রাখতেন প্রাচীন বৈদ্যেরা। দমকা কাশি হতে থাকলে একটু ঘি ও মধু বা মিছরির গুঁড়া মিশিয়ে খেতে দিতেন। এতে কাশির উপকার হতো।  

হাড় মচকে গেলে বা চিড় খেলে: অর্জুন ছাল ও রসুন বেটে অল্প গরম করে মচকানো জায়গায় লাগিয়ে বেঁধে রাখলে সেরে যায়। তবে সেই সাথে অর্জুন ছালের চূর্ণ ২-৩ গ্রাম মাত্রায় আধা চামচ ঘি ও সিকি কাপ দুধ মিশিয়ে অথবা শুধু দুধ মিশিয়ে খেলে আরও ভালো হয়।  

ত্বকের পরিচর্যা: ত্বকে ব্রণের ক্ষেত্রে অর্জুন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ছালের চূর্ণ মধুর সাথে মিশিয়ে ব্রণের উপর লাগালে খুব দ্রুত উপকার হয়। এছাড়া ছালের মিহি গুঁড়া মধু মিশিয়ে লাগালে মেচতার দাগ দূর হয়।  

বুক ধড়ফড়: যাদের বুক ধড়ফড় করে অথচ উচ্চ রক্তচাপ নেই, তাদের পক্ষে অর্জুন ছাল কাঁচা হলে ১০-১২ গ্রাম, শুকনা হলে ৫-৬ গ্রাম একটু ছেঁচে ২৫০ মিলি দুধ ও ৫০০ মিলি পানির সাথে মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে আনুমানিক ১২৫ মিলি থাকতে ছেঁকে বিকাল বেলা খেলে বুক ধড়ফড়ানি অবশ্যই কমবে। তবে পেটে যেন বায়ু বা গ্যাস না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। লো-ব্লাড প্রেসারে উপযুক্ত নিয়মে তৈরি করে খেলেও অবশ্য প্রেসার বাড়বে।  রক্তপিত্তে: মাঝে মাঝে কারণে বা অকারণে রক্ত ওঠে বা পড়ে। সেক্ষেত্রে ৪-৫ গ্রাম ছাল রাত্রিতে পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে ছেঁকে নিয়ে পানিটা খেলে উপকার পাওয়া যায়। 

ফোঁড়া: ফোঁড়া হলে পাতা দিয়ে ঢেকে রাখলে ফোঁড়া ফেটে যায়, তারপর পাতার রস দিলে তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়।  

ক্ষত বা ঘা: শরীরে ক্ষত বা ঘা হলে, খোস-পাঁচড়া দেখা দিলে অর্জুনের ছালের ক্বাথ দিয়ে ধুয়ে ছালের মিহি গুঁড়া পানি দিয়ে মিশিয়ে লাগালে দ্রুত ঘা সেরে যায়।  

কানের ব্যথায়: কানের ব্যথায় অর্জুন গাছের কচি পাতার রস কানের ভিতরে দুই ফোঁটা করে দিলে কানের ব্যথা ভালো হয়।  

যৌন রোগ: যাদের মধ্যে যৌন অনীহা দেখা দেয় তাদের ক্ষেত্রে অর্জুনের ছাল চূর্ণ উপকারী। এই ছাল চূর্ণ দুধের সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে নিয়মিত খেলে এই রোগ দূর হয়। এছাড়া যাদের শুক্রমেহ আছে তারা অর্জুন ছালের গুঁড়া ৪-৫ গ্রাম ৪-৫ ঘণ্টা আধা পোয়া গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে, তারপর ছেঁকে ওই পানির সাথে ১ চামচ শ্বেতচন্দন মিশিয়ে খেলে উপকার হয়। 

রক্ত আমাশয়ে: ৪-৫ গ্রাম অর্জুন ছালের ক্বাথে ছাগলের দুধ মিশিয়ে খেলে রক্ত আমাশয় ভালো হয়।  

হজম ক্ষমতা বাড়ায়: ডায়রিয়া বা পেটের অন্য কোনো সমস্যা দেখা দিলে অর্জুনের ছাল ৪৫-৩০ গ্রাম করে খেলে হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ও অসুবিধা দূর হয়। 

মুখ, জিহ্বা ও মাড়ির প্রদাহে: অর্জুনের ছাল এসব রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি মাড়ির রক্তপাতও বন্ধ করে। 

এছাড়াও অর্জুন ছাল সংকোচক ও জ্বর নিবারক হিসেবেও কাজ করে। ইদানিং অর্জুন গাছের ছাল থেকে ‘অর্জুন চা’ তৈরি হচ্ছে যা হৃদরোগের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। DOS থেরাপি অনুযায়ী অর্জুন ফল দেখতে মানব দেহের হৃদপিন্ডের মতো তাই অর্জুনকে হৃদরোগের মহৌষধ বলা হয়।

বি: দ্র: পোষ্টটি ভালো লাগলে বন্ধুদের কাছে শেয়ার করুন।

Oct 10, 2014

লিউকেমিয়া (ব্লাড ক্যান্সার) এ হোমিও চিকিত্সা !!!


্তের মধ্যে রয়েছে লাল রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা ও অনুচক্রিকা। এর সবই বোনম্যারো বা অস্থি মজ্জা থেকে উৎপত্তি লাভ করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হতে থাকে। আর ব্লাড ক্যান্সার বলতে সাধারণভাবে রক্তের উল্লেখিত যে কোনো উপাদান থেকে সৃষ্ট ক্যান্সারকে বোঝায়।

ব্লাড ক্যান্সারের প্রকারভেদ :

ক. লিউকেমিয়া (শ্বেতকণিকা থেকে সৃষ্ট ব্লাড ক্যান্সার) : ১. একিউট মাইলোবস্নাস্টিক লিউকেমিয়া ২. একিউট লিমফ্লোবস্নাস্টিক লিউকেমিয়া ররর. ক্রনিক মাইলয়েড লিউকেমিয়া এবং ৩. ক্রনিক লিমফোসাইটিক লিউকেমিয়া
খ. লিমফোমা : (লসিকা গ্রন্থি থেকে সৃষ্ট এক ধরনের ব্লাড ক্যান্সার) : * হজকিন ও নন হজকিন লিমফোমা। * লিমফোবস্নাস্টিক লিমফোমা ইত্যাদি।
গ. মাইলোমা ও প্লাজমা সেল লিউকেমিয়া: প্লাজমা সেল থেকে সৃষ্ট ব্লাড ক্যান্সার।

ব্লাড ক্যান্সারের লক্ষণ :

রক্ত কণিকাগুলো সঠিক মাত্রায় উৎপন্ন না হলে রক্তশূন্যতা রক্তক্ষরণ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়ে রোগীর মৃত্যু ঘনিয়ে আসে।
১. রক্ত শূন্যতাজনিত লক্ষণ : যেমন-অবসাদ ও দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় ইত্যাদি।
২. শরীরের ইনফেকশনের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। ফলে লাগাতার জ্বর থাকতে পারে।
৩. রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা দেখা দেয়। যেমন, নাক, দাঁতের মাড়ি, চোখ ও ত্বকে রক্তক্ষরণ এবং মাসিকের সময় বেশি রক্ত যাওয়া প্রভৃতি হতে পারে।
৪. শরীর বা হাড়ে ব্যথা, জয়েন্টে ব্যথা।
৫. লিভার ও স্পিলন বড় হয়ে যাওয়া।
৬. গিলায়, বগলে বা অন্যত্র লিম্ফনোড বড় হওয়া।

ব্লাড ক্যান্সারের কারণ : 

যেসব ফ্যাক্টর ব্লাড ক্যান্সারের আশঙ্কা বাড়ায় তা হলো-জেনেটিক, পরিবেশ ও পেশাগত ফ্যাক্টর।
ক. তেজস্ক্রিয়তা : বোমা বিস্ফোরিত হওয়া।
খ. রাসায়নিক পদার্থ : বেনজিন, পেট্রোল ও প্লাস্টিক কারখানার ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থ।
গ. জেনেটিক ডিজ অর্ডার : এনিমিয়া, ডাউন সিনড্রোম। মূলত অনকোজিনের আধিক্য অথবা টিউমার সাপ্রেসর জিনের অক্ষমতায় রক্ত কণিকার অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে বস্নাড ক্যান্সার হয়ে থাকে।

প্রতিরোধের উপায় : 

ক. যেসব রোগীকে কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি একসঙ্গে দেয়া হয় তাদের মধ্যে ব্লাড ক্যান্সারের প্রবণতা প্রায় ২০ গুণ বেড়ে যায়।
খ. তেজস্ক্রিয়তা পরিহার করতে হবে।
গ. রাসায়নিক দ্রব্যাদির সংস্পর্শ পরিহার করতে হবে।
ঘ. এক্স-রে বিভাগে ও নিউক্লিয়ার বিভাগে কাজ করার সময় বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
ঙ. ধূমপান ও তামাক জর্দা পরিহার করতে হবে।

ব্লাড ক্যান্সারের ঝুঁকি : আমাদের দেশে প্রতিবছর প্রতি লাখে ৪ থেকে ৫ জন এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। সে হিসাব অনুযায়ী ১৫ কোটি মানুষের মধ্যে প্রতিবছর ৬-৭ হাজার লোক আক্রান্ত হচ্ছেন।

অধিক ঝুঁকির কারণ : 

১. কৃষি কাজে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিকদ্রব্য ব্যবহার করা।
২. কলকারখানায় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা।
৩. পরিবেশ দূষণ।
৪. মাছ, ফল ও অন্যান্য খাদ্য দ্রব্যে ফরমালিন ব্যবহার করা।

ব্লাড ক্যান্সার নির্ণয় :

১. সিবিসি ও ব্লাড ফিল্ম পরীক্ষা করে প্রাথমিকভাবে ব্লাড ক্যান্সার সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায়।
২. বোনম্যারো ও ট্রিফাইন বায়োপসি পরীক্ষা : কোমরের হাড় থেকে অস্থিমজ্জা সংগ্রহ করে পরীক্ষা।
৩. লিম্ফনোড এফএনএসি ও বায়োপসি পরীক্ষা : লসিকা গ্রন্থি থেকে টিস্যু নিয়ে পরীক্ষা।

আধুনিক চিকিৎসা :

* কেমোথেরাপি
* বোনম্যারো ট্রান্সপ্লানটেশন (মেরুমজ্জা প্রতিস্থাপন)
* টার্গেটেড থেরাপি
* ইমিউনো বা বায়োলজিক্যাল থেরাপি।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা : 

মেরুমজ্জা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে এ রোগের চিকিৎসা করা যায় কিন্তু তা এতো ব্যয়বহুল যে সবাই করতেও পারে না আর পারলেও নিশ্চিত সফলতা লাভ করা যায় না। হোমিওপ্যাথিক মতে এ রোগের চিকিৎসা রয়েছে। সার্বিক লক্ষণের বিশ্লেষণে যে ওষুধের সঙ্গে লক্ষণ মিলে যায় ঐ ওষুধ দিয়েই রোগীর চিকিৎসা করতে হয়। হোমিওপ্যাথিতে প্রায় ৩৭টি ওষুধ আছে। তবে সাধারণত যে সব ওষুধ সাদৃশ্য লক্ষণের ভিত্তিতে প্রয়োগ করা যেতে পারে- আর্সেনিক এলবাম, ক্যাডমিয়াম সাল্প, রেডিয়াম ব্রোমাইড, সিয়েনোথাস, চিয়োন্যন্থাস, ফেরামফস, ফেরামমেট, ফেরাম-আইওড, আর্নিকা আর্স-আইওড, ক্যাল ফস, ক্যাল কার্ব, চায়না, ফেরাম পিকরিক, কেলি ফস, নেট্রাম অ্যাসিটিক, নেট্রাম মিউর, ন্যাট ফস, এসিড পিক, এক্স-রে ও সালফার ইত্যাদি।

ব্লাড ক্যান্সার বা লিউকেমিয়া মানবেদেহে ঘাতক ব্যাধিগুলোর মধ্যে অন্যতম বলে বিবেচিত। তাই এ রোগের উৎপত্তি, কারণ, উপসর্গ-প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সম্পর্কে সবারই ধারণা থাকা উচিত। এজন্য এই ধরনের পোষ্টগুলি বেশি বেশি শেয়ার করে জনগনকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার সম্বন্ধে সচেতন করে তুলুন।

Popular Posts

Blog Archive

Powered by Blogger.