রক্তের অনেক প্রকার রোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি রোগের নাম লিউকেমিয়া। সাধারণভাবে এটিকে রক্ত ক্যান্সারও বলা হয়। আমাদের শরীরে যে রক্ত আছে তাকে রক্ত রস ও রক্ত কণিকা এই দুই ভাগ করা হয়েছে। রক্ত কণিকা আবার তিন প্রকার। যথা লোহিত রক্ত কণিকা, শ্বেত রক্ত কণিকা ও অনুচক্রিকা। শ্বেত রক্ত কণিকা পাঁচ প্রকার।
লিউকোসাইট এর মধ্যে একটি। কোন কারণে রক্তের লিউকোসাইট যদি সংখ্যায় অধিক পরিমাণে বেড়ে যায় তখনই তাকে লিউকেমিয়া বলা হয়। এই লিউকেমিয়া জীবন ধ্বংসকারী একটি মারাত্মক রক্ত রোগ। এই রোগ কেন হয় তার প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। তবে যারা আয়োনাইজিং রেডিয়েশন (এক্স-রে, গামা-রে ইত্যাদি) এর সংস্পর্শে বেশি থাকেন, সাইটোটক্সিক ওষুধ গ্রহণ করেন, যারা বেনজিনের সংস্পর্শে থাকেন, তাদের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি দেখা যায়। রেট্রোভাইরাসকেও এই রোগের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই রোগে যে কোন বয়সের যে কাউকে যে কোন সময় আক্রান্ত হতে দেখা যায়। তবে শিশুদের এই রোগ বেশি হয়। এই রোগের উপসর্গ বা লক্ষণ এক এক জনের ক্ষেত্রে এক একভাবে প্রকাশ পেতে দেখা যায়। অনেক সময় হঠাৎ করে আবার কখনও কখনও ধীরে থীরে লক্ষণ প্রকাশ পেতে দেখা যায়। জ্বর থাকবে, অস্বস্তি করবে, হঠাৎ করে রক্ত শূন্যতা দেখা যাবে, রোগী শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। নাক দিয়ে রক্ত ক্ষরণ হতে পারে, দাঁতের গোড়া বা মাড়ি ফুলে যায়, দাঁতের গোড়া দিয়ে রক্ত আসতে পারে, অনেক সময় মুখের ভেতরে ঘা হতে পারে, জয়েন্টের ভেতরে প্রচুর ব্যথা করতে পারে। জয়েন্ট ফুলে যেতে পারে। লিভার ও প্লীহা বড় হয়ে যেতে পারে। রক্তের লোহিত কণিকার সংখ্যা কমে যায়, হিমোগ্লোবিন কমে যায়, রক্তের ই,এস, আর অনেক বেশী হয়। শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়, অপরিণত শ্বেত কণিকা দেখতে পাওয়া যায়। হাড্ডি মজ্জা পরীক্ষা করলে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা যায়। লিউকেমিয়া রোগ মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের বেশি হতে দেখা যায়। আমাদের দেশে প্রতিবৎসর আনুমানিক দুই হাজার শিশু এই লিউকেমিয়া রোগে আক্রান্ত হয় এবং অধিকাংশ শিশুই ১৫ বছরের আগেই মারা যায়। পক্ষান্তরে বিদেশে এই রোগের চিকিৎসার প্রভূত উন্নতি হয়েছে, তারা মৃত্যুহার কমাতে সক্ষম হয়েছে এবং তারা আশা করছে কয়েক বছরের মধ্যে, এই রোগকে সম্পূর্ণরূপে নিরাময়যোগ্য রোগ হিসেবে আয়ত্বে আনতে পারবে। এই রোগ যথাসময়ে চিকিৎসা করা সম্ভব হলে দুই তৃতীয়াংশ শিশুকে সুস্থ করা সম্ভব। তাই উপরোক্ত লক্ষণগুলি দেখা দেওয়ার সাথে সাথে রোগীর রক্ত পরীক্ষা করান এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিন।








0 comments:
Post a Comment