একটু সচেতনতা রক্ষা করতে পারে আপনার ও আপনার শিশুর জীবন !!! একটি সমাজসেবা মূলক ব্লগ ।

Jul 31, 2014

হেনা দাস !!

হেনা দাস বাংলার নারী জাগরণে যে ক'জন নারী তাঁদের সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে বিশেষ অবদান রেখেছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম একজন। তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি  ১৯২৪ তারিখে সিলেটে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতা সতীশচন্দ্র দত্ত একজন স্বনামধন্য আইনজীবী এবং মা মনোরমা দত্ত ছিলেন চুনারুঘাট থানার নরপতি গ্রামের জমিদার জগত্‍চন্দ্র বিশ্বাসের বড়ো মেয়ে। ব্রিটিশ-বিরোধী-আন্দোলন, ভাষা-আন্দোলন, ঊনসত্তরের অভ্যুত্থান ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামসহ বাংলাদেশের সকল ক্রান্তিলগ্নে তিনি সক্রিয় ছিলেন।

সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময়ই হেনা দাস ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে, সশস্ত্র বিপ্লোবী আন্দোলনে প্রভাবিত হন। ১৯৩৮ এ তিনি ছাত্র ফেডারেশন নামে ছাত্রসংগঠনের যোগ দেন। ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারতে চলে যান এবং উদ্বাস্তু শিক্ষকদের সাথে রিলিফের কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ১৯৭৮ সাল থেকে পরবর্তী ১৪ বছরে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সহ আরও বিভিন্ন পদে নির্বাচিত হয়ে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ডঃ কুদরত-ই-খুদার নেতৃত্বে গঠিত বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের অন্যতম সদস্য ছিলেন। হেনাদাস ১৯৮৯ সালে চাকুরি থেকে অবসর নেন। হেনা দাস বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি ২০০০ সালের ২২ জানুয়ারি মহিলা পরিষদের সভানেত্রী নির্বাচিত হন।

সমাজ সংগ্রামী নারী হেনা দাসের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল প্রথাগত কাজের মাধ্যমে নয়, মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনই ছিল তাঁর প্রধান কাজ। রাজনৈতিক কারণে আত্মগোপন অবস্থায় থেকে তিনি দীর্ঘদিন কোনো পেশায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি। কিন্তু সন্তানের কথা চিন্তা করে তিনি চাকরি করার সিদ্ধান্ত নেন। অবশেষে ১৯৫৮ সালে তিনি ঢাকার "গেণ্ডারিয়া মনিজা রহমান বালিকা বিদ্যালয়ে" শিক্ষকতার চাকরি নেন। সে সময় তাঁর মাসিক বেতন ছিল ১১৫ টাকা। বিএড ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৬১ সালে তিনি প্রধান শিক্ষিকা পদে "নারায়ণগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয়ে" নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এরপর "মহাখালী ওয়ারলেস স্টেশন স্কুলে"-ও তিনি কিছুদিন প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালন করেন। প্রায় তিন যুগ শিক্ষকতার পর হেনা দাস ১৯৮৯ সালে শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

রাষ্ট্রীয়ভাবে তিনি 'রোকেয়া পদকে' সম্মানিত হয়েছেন। এছাড়া সুনামগঞ্জ পৌরসভা, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, ঢাকেশ্বরী মন্দির, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট, আহমেদ শরীফ ট্রাস্টসহ তিনি বহু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সম্মাননা পেয়েছেন। রাজশাহীর একটি প্রতিষ্ঠান হেনা দাসের ওপর একটি অডিওভিজু্য়াল ডকুমেন্টারি তৈরি করেছে। নারীপক্ষ ও নারীগ্রন্থ প্রবর্তনা থেকে প্রকাশিত দুটি বই-এ হেনা দাসের সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি সাহিত্য প্রকাশের মফিদুল হক 'মাতৃমুক্তি পথিকৃত' নামে তাঁর জীবনের উপর একটি বই প্রকাশ করেন।

দীর্ঘ দিন বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগে ২০০৯ সালের ২০ জানুয়ারি রোববার সকালে ঢাকার বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

0 comments:

Post a Comment

Popular Posts

Blog Archive

Powered by Blogger.