জার্মান বিজ্ঞানীরা এক গবেষণায় দাবি করছেন, মস্তিস্কের রোগ নিরাময়ে হলুদ খুবই কার্যকরী একটি উপাদান। মস্তিস্কের ক্ষতিগ্রস্থ কোষ নিজে থেকে সারিয়ে তুলতে হলুদ খুবই কার্যকরী। স্টেম সেল রিসার্চ এন্ড থেরাপি জার্নালে সম্প্রতি এই গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে। জার্মান গবেষকদের এই গবেষণায় দাবি করা হচ্ছে, হলুদের মধ্যে এমন একটি উপাদান আছে, যা স্নায়ু কোষ তৈরিতে সাহায্য করে। এসব কোষ মস্তিস্কের ক্ষতিগ্রস্থ অংশ সারিয়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জার্মান বিজ্ঞানীরা এই গবেষণাটি চালান ইঁদুরের ওপর। কিন্তু ভবিষ্যতে স্ট্রোক বা অ্যালঝেইমার রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য ওষুধ তৈরিতে এই গবেষণা কাজে লাগবে বলে তারা আশা করছেন। জার্মানীর ইনষ্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স এন্ড মেডিসিন এর গবেষকরা হলুদের একটি উপাদান ‘টারমেরোন’ ইনজেকশন দিয়ে ঢুকিয়ে দেন ইঁদুরের শরীরে। এরপর তারা ইঁদুরের মস্তিস্ক স্ক্যান করে দেখতে পান যে অংশে স্নায়ু কোষ তৈরি হয়, সেটি আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয়। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, ‘টারমেরোনে’র প্রভাবে ইঁদুরের মস্তিস্কে স্নায়ু কোষ তৈরির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে। একটি পচনরোধী উপাদান হিসেবে হলুদের খ্যাতি আছে। দক্ষিণ এশিয় রন্ধন প্রণালীতে হলুদ একটি ব্যাপক ব্যবহৃত মশলা। এর আগে অন্য কিছু গবেষণায় হলুদের ক্যান্সার প্রতিরোধী গুণেরও সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
এছাড়া ..........
*মুখে জ্বালা-পোড়া করলে গরম পানির মধ্যে হলুদের পাউডার মিশিয়ে কুলকুচি করুন। * শরীরের কোনো অংশ পুড়ে গেলে পানির মধ্যে হলুদের পাউডার মিশিয়ে লাগাতে পারেন। * সূর্যের তাপে গা জ্বলে গেলে হলুদের পাউডারের মধ্যে বাদামের চূর্ণ এবং দই মিশিয়ে লাগান। * সর্দি-কাশি হলে হলুদ খেতে পারেন। কাশি কমাতে হলে হলুদের টুকরা মুখে রেখে চুষুন।
এছাড়া এক গ্লাস গরম দুধের মধ্যে হলুদের গুঁড়ো এবং গোলমরিচ গুঁড়ো মিশিয়ে পান করুন।
* আয়ুর্বেদিক মতে, হলুদ নাকি রক্ত শুদ্ধ করে। তাই হলুদের ফুলের পেস্ট লাগালে চর্ম রোগ দূর হয়। এর মধ্যে প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ লবণ, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, লোহা প্রভৃতি নানা পদার্থ রয়েছে। তাই হলুদ খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা জন্মায়। লিভারের ক্ষেত্রে হলুদ খাওয়া খুবই ভালো।
* হলুদের মধ্যে ফিনোলিক যৌগিক কারকিউমিন রয়েছে যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
* হলুদ মোটা হওয়া থেকে বাঁচায়। হলুদে কারকিউমিন নামে এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে যা শরীরে খুব তাড়াতাড়ি মিশে শরীরের কলাগুলোকে বাড়তে দেয় না।
* গা ব্যথা হলে দুধের মধ্যে হলুদ মিশিয়ে খেতে পারেন। জয়েন্টের ব্যথা হলে হলুদের পেস্ট তৈরি করে প্রলেপ দিতে পারেন।
* যখন ফুলকপির সাথে হলুদ মিশিয়ে খাওয়া হয় তখন তা গ্লান্ড ব্লাডারে ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।
* ব্রেস্ট ক্যন্সার লান্স পর্যন্ত যাতে ছড়াতে না পারে তা প্রতিরোধ করে হলুদ।
* এটা শৈশবে লিউকমিয়ার ঝুঁকি কমায়। চাইনিজরা বিষণ্ণতা কমাতে অনেক আগে থেকেই হলুদের ভেষজ চিকিৎসা করে আসছে।
* ক্ষতিগ্রস্থ ত্বক বা যাদের ত্বকে অ্যালার্জির প্রকোপ বেশি তা কমাতে এবং নতুন কোষ গঠনেও হলুদ উপকারী।
* লিভার ড্যামেজ যা একসময় সিরোসিসে রূপ নেয় তা প্রতিরোধে হলুদের উপকার অনস্বীকার্য।
* রিসার্চে প্রমাণিত হয়েছে, হলুদের মাধ্যমে পুর্ব চিকিৎসা নেয়া হলে তা ক্যান্সার সেল কে দুর্বল করে দেয় এবং এতে করে ক্যন্সার সহজে ছড়াতে পারেনা।
তাই আসুন দৈনন্দিন জীবনে হলুদকে গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করি..............








0 comments:
Post a Comment