জীবনানন্দ
দাশ ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের দক্ষিণ প্রান্তের জেলাশহর বরিশালে
জন্মগ্রহণ করেন । তাঁর পূর্বপুরুষেরা ছিলেন ঢাকা জেলার বিক্রমপুর পরগণা
নিবাসী । জীবনানন্দের পিতা সত্যানন্দ দাশগুপ্ত । জীবনানন্দের মাতা
কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন কবি, তাঁর সুপরিচিত কবিতা আদর্শ ছেলে (আমাদের দেশে
হবে সেই ছেলে কবে/ কথায় না বড় হয়ে কাজে বড়ো হবে) আজও শিশুশ্রেণীর পাঠ্য
। সম্ভবতঃ মা কুসুমকুমারী দেবীর প্রভাবেই ছেলেবেলায় পদ্য লিখতে শুরু করেন
তিনি। ১৯১৯ সালে তাঁর লেখা একটি কবিতা প্রকাশিত হয়। এটিই তাঁর প্রথম
প্রকাশিত কবিতা। কবিতাটির নাম বর্ষা আবাহন ।
কালকাতার এই হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন কবি জীবনানন্দ দাশ....................
১৪ই অক্টোবর, ১৯৫৪ তারিখে কলকাতার বালিগঞ্জে এক ট্রাম দূর্ঘটনায় তিনি আহত
হন । ট্রামের ক্যাচারে আটকে তার শরীর দলিত হয়ে গিয়েছিল । ভেঙ্গে
গিয়েছিল কণ্ঠা, ঊরু এবং পাঁজরের হাড় । গুরুতরভাবে আহত জীবনানন্দের চিৎকার
শুনে ছুটে এসে নিকটস্থ চায়ের দোকানের মালিক চূণীলাল এবং অন্যান্যরা তাঁকে
উদ্ধার করে । তাঁকে ভর্তি করা হয় শম্ভূনাথ
পণ্ডিত হাসপাতালে । এ সময় স্ত্রী লাবণ্য দাশকে কদাচিৎ কাছে দেখা যায় ।
তিনি টালিগঞ্জে সিনেমার কাজে ব্যস্ত ছিলেন । জীবনানন্দের অবস্থা ক্রমশঃ
জটিল হতে থাকে । শেষ পর্যন্ত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়েন কবি ।
চিকিৎসক ও সেবিকাদের সকল প্রচেষ্টা বিফলে দিয়ে ২২ শে অক্টোবর, ১৯৫৪ তারিখে
রাত্রি ১১টা ৩৫ মিনিটে কলকাতার শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয় ।
কেউ কেউ ধারণা করেছেন হয় আত্মহত্যা স্পৃহা ছিল দুর্ঘটনার মূল কারণ ।
জীবনানন্দ গবেষক ডাঃ ভূমেন্দ্র গুহ মনে করেন জাগতিক নিঃসহায়তা কবিকে
মানসিকভাবে কাবু করেছিল এবং তাঁর জীবনস্পৃহা শূন্য করে দিয়েছিল ।
মৃত্যুচিন্তা কবির মাথায় দানা বেঁধেছিল । তিনি প্রায়ই ট্রাম দুর্ঘটনায়
মৃত্যুর কথা ভাবতেন । গত এক শত বৎসরে ট্রাম দুর্ঘটনায় কোলকাতায় মৃত্যুর
সংখ্যা মাত্র একটি । তিনি আর কেউ নন, কবি জীবনানন্দ দাশ । কিন্তু
প্রত্যক্ষদর্শীর মতে এ সময় দুই হাতে দুই থোকা ডাব নিয়ে ট্রাম লাইন পার
হচ্ছিলেন কবি । আত্মহননের সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই হাতে দুই থোকা ডাব নিয়ে
গৃহে ফেরার সড়কে ওঠার জন্য ট্রাম লাইন পারি দেয়া খুব গ্রহণযোগ্য যুক্তি
নয় ।










0 comments:
Post a Comment