যে বয়সে সারাদিন ছুটোছুটি, হুড়োহুড়ি আর পাড়ার অন্যান্য ছেলেদের সাথে দুষ্টামি-খেলা করার কথা সেই বয়সে এই অসহায় মো: আকীব লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শুয়ে আছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এন্ড কলেজ এর ডি-ব্লক, পেডিয়্যাট্রিক হেমাটোলজি এন্ড অনকোলজি ডিপার্টমেন্টের ১০ নং ওয়ার্ড এ। তার বয়স মাত্র সাড়ে ৫ বছর। সেখানে শুয়ে সে দিন-রাত যন্ত্রণায় ছটফট করছে।
তার মায়ের বড় সখ ছিল বড় হয়ে ছেলে দেশের কোন সুনামধন্য ব্যক্তিত্ব হবে। অনেক সাধনার পর মহান আল্লাহ তায়ালা পাঁচ মেয়ের পর এই ছেলের মাধ্যমে মোছা: হেনা বেগম (মা) এর কোল আলোকিত করেন। সেদিন কেউ কি ভেবেছিল এই আকীব এমন দূরারোগ্য ব্যাধিতে পড়বে?? কথনও না। আকীব সারাদিন খেলাধুলা করে সন্ধ্যায় যখন বাসায় ফিরতো তখন প্রায়ই বলত মা কেমন জানি লাগছে। মা ভাবত হয়ত পড়তে বসতে বলব তাই বাহানা তৈরী করছে। এভাবে কিছুদিন যেতে যেতে নিয়মিত তার জ্বর আসতে শুরু করে। দুই-তিন দিন পর ঔষধ খেয়ে ভালো হয়ে যায়। শরীরে একটু প্রেসার পড়লেই বমি করে । আবার কিছুদিন পর জ্বর দেখা দেয়। এভাবে বেশ কিছুদিন যাওয়ার পর আকীবের মা-বাবা নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কেউ বলে জন্ডিস, কেউ বলে নিউমোনিয়া হয়েছে। সর্বশেষ তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে নিয়ে গেলে সেখানকার ডাক্তাররা তার রক্ত পরীক্ষা করে লিউকেমিয়ার আলামত পান। এ কথা শুনে আকীবের মা-বাবার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। ১২ দিন ময়মনসিংহ মেডিকেলে চিকিত্সার পর আকীবকে ঢাকায় নেয়া হয়। ঢাকায় এসে বিএসএমএমইউ তে ভর্তি করা হয়। এখন অবধি সে এইখানেই আছে। আগের স্বাভাবিক বমি আর নেই সেখানে শুরু হয়েছে রক্ত বমি। এছাড়া প্রায়ই মলদ্বার দিয়ে রক্ত যায়। এখন তার অবস্থা ধীরে ধীরে খারাপের দিকে যাচ্ছে।
তার মা এখনও আশা করে ছেলে সেরে উঠবে, স্কুলে যাবে। দুষ্টুমির ছলে স্কুল ফাঁকি দিয়ে এসে বলবে তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছিল/অমক ছেলে আমাকে মেরেছে/অমক আমার পেন্সিল চুরি করেছে ইত্যাদি। কিন্তু কবে আসবে সেই দিনগুলো? আদৌ কি আসবে সেই দিন আকীব এর মা-বাবার ভাগ্যে??
আকীব এর পিতা মো: এহসানুল হক, গ্রাম: ভুরার চর, পোষ্ট: কাঁচারি বাজার, থানা: কুতুব আলী, জেলা: ময়মনসিংহ । তিনি গৃহস্থালির টুকিটাকি কাজ করেন এবং নিজস্ব একটি ট্রলি (যানবাহন) আছে। যা তিনি ভাড়ায় দিয়ে রেখেছেন। এই ভাড়ায় চালিত ট্রলি থেকে যা যত্সামান্য আয় হয় তাই দিয়ে তার সংসার চলে। জমি জায়গা বলতে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া গ্রামের ৫ কাঠা জমি ছাড়া আর কিছু নেই। এরই মধ্যে আকীবের চিকিত্সা খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা। এই টাকা আকীবের বাবা জমি বন্ধক, ঋণ ইত্যাদির মাধ্যমে চালিয়েছে। কয়েক সপ্তাহ পর হয়তো তার ট্রলিটি বিক্রি করতে হবে, জমি বিক্রি করতে হবে। আকীবের এখন কেমুথেরাপি দেওয়া হচ্ছে। প্রতি থেরাপির জন্য খরচ প্রায় আট হাজার টাকা। এছাড়াও আছে রক্ত বাবদ খরচ। প্রাথমিক অবস্থায় ৭ টি কেমুথেরাপি দেওয়া হবে। এর পর বোনমেরু টেষ্ট করে ২য় পর্যায় থেরাপি শুরু হবে।
আকীবকে প্রায় প্রতিদিনই কমপক্ষে এক/দুই ব্যাগ রেড সেল/হোয়াইট সেল ব্লাড দিতে হয়। এছাড়া যখন তখন এই টেষ্ট সেই টেষ্ট তো আছেই। তাহলে বুঝতেই পারছেন কি পরিমাণ নগদ অর্থ সর্বদা প্রস্তুত রাখতে হয়।
আকীবের বাবা ইতোমধ্যে ৩ লাখ টাকা দেনাগ্রস্ত হয়েছেন। দিনে দিনে দেনার পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক পর্যায় দেখা যাবে তার জমি আর ট্রলি বিক্রি করে শুধু দেনাই শোধ হবে না। এখন তিনি অসহায় প্রায়। তার ছেলের সম্পূর্ণ চিকিত্সা দিতে হলে তাকে আরও ২৫-৩০ লাখ টাকা খরচ করার সামর্থ থাকতে হবে। কিন্তু কোথায় পাবে সে এত টাকা??
আকীবের বাবা মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান, তিনি সরাসরি কাউকে সাহায্যের জন্য বলতেও পারছেন না আবার সইতেও পাছেন না। কিন্তু তার চোখ-মুখের ভাষা বলে তার অনেক সাধনার ধন এই একমাত্র ছেলেকে যেভাবেই হোক বাঁচাতে হবে। আকিবের বাবা-মার নির্জলা চোখ দুটি তাকিয়ে আছে সমাজের সেই সকল বিত্তবানদের দিকে, যারা অন্যের সাহায্য করে নিজে আনন্দ পান। আকীবের বাবা-মা নিশ্চুপভাবে অসহায় এর মত সেই সকল উপকারী মানুষদের সর্বদা খুজে ফিরছে।
আদৌ কি পাবে এমন মানুষ????
আছে কি এমন মানুষ বাংলাদেশে????
যদি কেউ থেকে থাকেন তাহলে আকীবের বাবা মো: এহসানুল হক এর সাথ যোগাযোগ করুন 8801796433568 এই নম্বরে অথবা আর্থিক সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা :
কৃষি ব্যাংক, সঞ্চয়ী হিসাব নং ৫৬৫৮, ভুরার চর শাখা, ময়মনসিংহ।
এছাড়া আকীবকে রক্ত দিয়ে সাহায্য করতে পারেন- রক্তের গ্রুপ বি+ (পজেটিভ) ।
বি: দ্র: রোগীর আর্থিক
সাহয্যের জন্য রোগীর অভিভাবকের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে যাচাই করে সাহায্য
করবেন। এখানে আমার (এ্যাডমিন) এর ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িত নয়। সমাজসেবা এবং
লিউকেমিয়া রোগীদের আর্থিক সাহায্য ও রক্ত’র জন্য বিগ্গাপন দেওয়াই আমার মূল
লক্ষ্য।








0 comments:
Post a Comment