চিকিৎসা:
এই রোগের চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য হলো লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত কোষগুলোকে মেরে ফেলা এবং অবশিষ্ট স্বাভাবিক মাতৃকোষগুলোকে সংরক্ষণ করা। পরবর্তীকালে উক্ত মাতৃকোষ থেকে পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক কোষের জন্ম নেয়। এটির তিনটি ধাপ রয়েছে-
ক) রোগ ভালো করার প্রাথমিক পর্যায়।
খ) প্রাথমিক পর্যায়ে আক্রান্ত কোষ নষ্ট হওয়ার পর যদি কোনো ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ থাকে তাকেও ধ্বংস করা ।
গ) উপরোক্ত ধাপে চিকিৎসা দেয়ার পর কেউ যদি ভালো অবস্থায় চলতে থাকে তবে এই ধাপে তাকে নিয়মিত ওষুধ খেয়ে যেতে হয়।
এছাড়া কিছু কিছু সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা দেয়া হয় যেগুলো নিম্নরূপ-
(১) রক্তশূন্যতা চিকিৎসা দেয়া;
(২) রক্তক্ষরণ থাকলে তার চিকিৎসা দেয়া;
(৩) ইনফেকশন এবং তার ফলে সৃষ্ট জটিলতা চিকিৎসা প্রদান
ক) ব্যাকটেরিয়াজনিত
খ) ছত্রাক বা ফাংগাসজনিত
গ) ভাইরাসজনিত।
(৪) মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখা, কেননা এ ধরনের রোগী বিভিন্ন ধরনের ডিলিউশন, হ্যালোসিনেশন অথবা প্যারোনিয়াজাতীয় মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়।
ক্রনিক লিউকেমিয়া:
এ রোগ একটু বেশি বয়সে হয়ে থাকে । অনেক রোগী কোনো সমস্যা ছাড়াই থাকতে পারে। তবে, অনেক রোগী দুর্বলতা, রক্তশূন্যতা অরুচি, জ্বর, ক্ষুধামন্দা ও ওজন কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
রোগ নির্ণয়:
রক্ত পরীক্ষা করলে রক্তের পেরিফেরাল ব্লাড ফিম -এ সাধারণত অপরিপক্ব শ্বেতকণিকার উপস্থিতি বেশি থাকে। অপরিপক্ব কোষের পরিমাণ <১০% অস্থিমজ্জা পরীক্ষা করেও এই রোগের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্রোমোজোমাল প্যাটান সাইটোজেনিক এবং মলিকিউলার পরীক্ষা করা হয় যা এই রোগের একটা বিশেষ শ্রেণীবিন্যাস এবং রোগের চিকিৎসার অগ্রগতিতে সহায়তা করে থাকে।
চিকিৎসা:
এ রোগের বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে। সঠিক সময়ে এ রোগ ধরতে পারলে উপযুক্ত চিকিৎসা দেয়া সম্ভব। যার ফলে অনেক রোগীই ভালো হয়ে যায়।
কেমোথেরাপি : বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার বিধ্বংসী ওষুধ দিয়ে এই রোগের চিকিৎসা করা হয় যাকে কেমোথেরাপি বলে। এত করে ক্যান্সার কোষগুলোকে মেরে ফেলা হয়। সঠিক নিয়মে এই থেরাপি দিতে পারলে একটা বিশাল সংখ্যক রোগীর আয়ুষ্কাল বাড়ানো সম্ভব। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ওষুধ নিম্নরূপ-
ক) ক্রনিক মাইলয়েড লিউকেমিয়া
(১) ইমাটিনিব: অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে চলা বা জন্ম নেয়া ক্যান্সার কোষগুলোকে জন্ম দিতে বাধা প্রদান করে। এটি ক্রনিক মাইলয়েড লিউকেমিয়ার ক্ষেত্রে প্রথম সারির ওষুধ।
(২) হাইড্রোক্সি কার্বামাইড: পূর্বে বেশি ব্যবহৃত হলেও এখনও জনপ্রিয়।
(৩) আলফা ইন্টারফেরন: ইমিট্যাবের পূর্বে আলফা ইন্টারফেরনকে প্রথম সারির ওষুধ মনে করা হতো। এ ওষুধ প্রায় ৭০% রোগ মুক্ত করাতে সক্ষম।
খ) ক্রনিক লিম্পোসাইটিক লিউকেমিয়া প্রয়োজনীয় ও নির্দেশিত ওষুধগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো
(১) কোরামবিউসিল;
(২) পিউরিন এনালগ ফুডারাবিন;
(৩) কর্টিকোস্টেরয়েড।
অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন: অল্প বয়সের রোগীর ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি দেয়ার পর এই চিকিৎসা দেয়া হয়। তবে যার অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করা হবে তার ব্লাডগ্রুপিং এবং ঐ টাইপ ম্যাচ করিয়ে এই চিকিৎসা করা হয়। অন্য কোনো জটিলতা না হলে এতে রোগী ভালো হয়ে যায়। এই চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
স্টেমসেল প্রতিস্থাপন: সামনের দিনগুলোতে আশার আলো নিয়ে আসবে যা এই রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটা বিপ্লব ঘটাবে। নতুন কিছু ওষুধ বাজারে আসছে যা বিভিন্ন ট্রায়াল- এ বিশেষ সফলতা রাখতে পেরেছে। এই রোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ায় বিশেষ করে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের জন্য উন্নত ও আধুনিক হাসপাতালে যেতে হয়। সঠিক সময়ে এই রোগ ধরতে পারলে এবং দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে পারলে অধিকাংশ রোগীই ভালো হয়ে যায়।








0 comments:
Post a Comment